ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) নিয়ে মাহবুবুর রহমানের নতুন বই

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত দেশের সবচেয়ে বেশি পঠিত মাহবুবুর রহমান প্রণীত একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ বই

রিসোর্স মেনুর অধ্যায় ভিত্তিক টপিকস সাব মেনুর অধীনে রয়েছে অসংখ্য ভিডিও লেকচার

প্রযুক্তি আলো-র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও কম্পিউটার বিষয়ক লেখক মাহবুবুর রহমান ছাত্রীদেরকে প্রোগ্রামিং শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন

প্রযুক্তি আলো-র একজন সদস্য ছাত্রীদের প্রোগ্রামিং শেখাচ্ছেন

কলেজ প্রাঙ্গনে ”প্রযুক্তি আলো” টিম

সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন কলেজের আইসিটি শিক্ষকদের সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখছেন লেখক মাহবুবুর রহমান

চাঁদপুর জেলার ৬৯টি কলেজের আইসিটি শিক্ষকদের সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখছেন লেখক মাহবুবুর রহমান

নাটোর জেলার বিভিন্ন কলেজের আইসিটি শিক্ষকদের অনুষ্ঠানে বক্তব্যরত লেখক মাহবুবুর রহমান

 

ডিজিটাল ডিভাইড

ডিজিটাল ডিভাইড

ডিজিটাল প্রযুক্তি যেমন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সুবিধা ভোগকারী এবং এসব সুযোগ হতে বঞ্চিত কিংবা কম সুবিধা ভোগকারী লোকদের মধ্যকার ব্যবধানকেই ডিজিটাল ডিভাইড বলে। অন্যভাবে ডিজিটাল ডিভাইডকে ব্যাখ্যা করলে দুটি শ্রেণীর ওই ব্যবধানকে বুঝাবে যেখানে শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতার পর্যায়ে ভিন্নতা দেখা যাবে। একটি শ্রেণীর শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নত হওয়ায় আইসিটি’র যাবতীয় সুযোগ সুবিধা কার্যকরীভাবে ব্যবহার করছে, অন্য শ্রেণীটি তা করতে পারছে না। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রসারের সাথে সাথে এ বিষয়টি আজ বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ উন্নত দেশগুলো সর্বাধুনিক সব ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। অপরদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলো অনেকক্ষেত্রে সেসব সুবিধা পায় না কিংবা তাদের ব্যবহৃত প্রযুক্তিগুলো পুরনো। এর ফলে বিশ্বায়নের যুগে পৃথিবীর দুই প্রান্তে বসবাসকারী লোকজনের মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। ফলে এক জনগোষ্ঠী আরেক জনগোষ্ঠী থেকে প্রযুক্তিগতভাবে বেশ পিছিয়ে পড়ছে।

dd

ডিজিটাল ডিভাইডের ধরন ও প্রকৃতি

সাধারণ অর্থে বৈষম্য বলতে যা বোঝায়, ডিজিটাল ডিভাইড দ্বারা ঐ ধরনের কোন পার্থক্যকে বোঝানো হয় না। বাস্তবে ডিজিটাল ধরনের ডিভাইড একক কোন বিচ্যুতি না যা দ্বারা একটি সমাজকে দুটি অংশে বিভক্ত করা যাবে। ডিজিটাল ডিভাইড বলতে কোন কোন ক্ষেত্রের অনগ্রসরতাকে বুঝানো যেতে পারে যেমনÑলো পারফরমেন্সের কমপিউটার, স্বল্প ব্যান্ডউইডথ বা ডায়ালআপ ইন্টারনেট কানেকশন, ইন্টারনেট কানেকশনের উচ্চমূল্য, টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্ট সহজলভ্য না হওয়া এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে সাইবার ক্যাফে না থাকা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান একটি উপাদান হচ্ছে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা যদি আধুনিক না হয় তাহলে সেক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার সম্ভব নয়। তাই ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যেই যে ডিজিটাল ডিভাইড রয়েছে তা নয় বরং অনেক উন্নত দেশের নিজেদের শহরগুলোর মধ্যেও এই ডিভাইড সৃষ্টি হতে পারে। গ্রামাঞ্চলে অবকাঠামোগত অসুবিধার কারণে অনেক সময়েই ডিজিটাল ডিভাইড রয়েই যায়। বিশ্বের প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে বাংলাদেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের চাইতে এমনকি অনেক উন্নয়নশীল দেশের চাইতেও বেশ পিছিয়ে আছে। তাই এখানে ডিজিটাল ডিভাইডের মাত্রাটি প্রখর। আবার বাংলাদেশের ভেতরেই বিভিন্ন জেলা বা শহরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিগত সুবিধা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় এখানেও দেশীয় পর্যায়ে আরেক ধরনের ডিজিটাল ডিভাইড সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দেশের এক অঞ্চলের জনগোষ্ঠী বেশি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে এবং আরেক অঞ্চলের জনগোষ্ঠী খুব বেশি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না।

ডিজিটাল ডিভাইড : সমস্যা ও সম্ভাবনা

ডিজিটাল ডিভাইড সমাজের নলেজ গ্যাপের সৃষ্টি করে। এর ফলে সমাজের বড় একটি অংশ অসীম সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তবে ডিজিটাল ডিভাইডকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে এ থেকে সুফলও পাওয়া সম্ভব। ডিজিটাল ডিভাইডকে যদি কোনভাবে ডিজিটাল ব্রীজ এ রূপান্তর করা যায় তাহলে তথ্য প্রযুক্তিকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো যাবে। সকলের জন্য তথ্য প্রযুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করে ডিজিটাল ব্রীজ বা বন্ধন তৈরি করা সম্ভব। তথ্য প্রযুক্তি সেবা উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে গ্রহণ করে। উন্নয়নশীল দেশগুলো এ সুযোগকে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য কাজে লাগাতে পারে। তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে নিত্যনতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক বিশাল সুযোগ। গ্রাম ও শহরের মধ্যে ডিজিটাল ডিভাইড ঘুচাতে মোবাইল ফোন বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। তথ্য প্রযুক্তি মানে দামী দামী কমপিউটার, মডেম, ইন্টারনেট ইত্যাদিকেই শুধু বুঝায় না। মোবাইল ফোনও তথ্য প্রযুক্তির একটি অংশ। মোবাইল ফোনের ব্যবহার বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের চেহারাই বদলে দিয়েছে। অন্যান্য প্রযুক্তিগত সুবিধা না থাকলেও মোবাইল ফোনের ব্যবহার আজ শহর ও গ্রামের মধ্যকার পার্র্থক্য অনেকটাই ঘোচাতে সক্ষম হয়েছে।

ডিজিটাল ডিভাইড হ্রাসের উপায়সমূহ

ডিজিটাল ডিভাইড কমিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন ধরনের উপায় অবলম্বন করা যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে
১.    অবকাঠামোগত উন্নতি সাধন করতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতে আইসিটি সুবিধা বিস্তৃত করা যায় সে লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন।
২.    কমপিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যেই এজন্য কমপিউটার ও আইসিটি পণ্যের উপর থেকে সব ধরনের শুল্ক তুলে নিয়েছেন।